এতিম শিশুদের মাংস লুট করলো আ.লীগ নেতারা | ইবিডি নিউজ

এতিম শিশুদের মাংস লুট করলো আ.লীগ নেতারা

vrajনগরীর বাগমারায় দেড়শ কার্টুন দুম্বার মাংস লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দিনভর অপেক্ষা করে এতিম শিশুরা মাংস না পেয়ে রাতে বাড়িতে ফিরে গেছে। মাংস লুটের সময় উপজেলা ত্রাণ অফিসের ২ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক তাদের তত্ত্বাবধানে এসব মাংস উপজেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে থাকে। বাগামায় এই মাংস লুটপাট হয়ে থাকলে আমার করার কিছুই নেই। বিষয়টি ইউএনও সাহেবের দেখভাল করার কথা।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় এতিমদের মধ্যে বিতরণের জন্য দেড়’শ কার্টুন দুম্বার মাংস বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য পিআইও অফিস উপজেলার এতিমখানার (শিশুসদন) ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার তালিকা করে তাদের মাংস নেওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদে আসতে বলা হয়।

সে মোতাবেক সোমবার সকাল থেকে শিশুসদনের এতিম শিশুরা উপজেলা পরিষদে এসে ভিড় জমায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা মাংস নেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। শেষে সন্ধ্যার পর রাজশাহী শহর থেকে মাংসভর্তি ট্রাক উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোই গিয়ে পৌঁছায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘উপজেলা প্রশাসন তালিকা ধরে পুলিশ পাহারায় মাংস বিতরণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় আ. লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নিকট জোর করে মাংসের কার্টুনগুলো লুট করে নিয়ে যায়। তাদের ধাক্কায় দুজন সামান্য আহতও হোন। পরে মাংস না পেয়ে এতিম শিশুরা রাতে বাড়ি ফিরে যায়।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরের অফিস সহকারী তোয়াজ আলী জানান, স্থানীয়রা এসে ধাক্কা-ধাক্কি করে মাংসগুলো লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তিনিসহ পিআইও দপ্তরে অন্তত দুজন সামান্য আহত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মাংস লুটের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বণ্টন করার সময় মাংস শেষ হয়ে যাওয়ায় তালিকা ভুক্তদের দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা লুটপাট ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি বলে তিনি জানিয়েছেন।